Atomic habits bangla pdf — এটমিক হ্যাবিটস | James Clear books

12 minute read
0
সহজ উপায়ে ভাল অভ্যাস তৈরি করা এবং খারাপ অভ্যাস দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি জানতে এটমিক হ্যাবিটস একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পিডিএফ বই।

Atomic habits bangla pdf

Atomic habits bangla pdf বই সম্পর্কে জ্ঞাত না এমন পাঠকের সংখ্যাই অত্যধিক। তাই আজকে আমরা বিখ্যাত আত্মউন্নয়নমূলক বইয়ের লেখক জেমস ক্লিয়ার এর লেখা বই এটমিক হ্যাবিটস বইটির pdf থেকে বাংলা অনুবাদ পড়ব।

Atomic habits bangla pdf গল্প

আমার উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের শেষ দিনে বেসবল খেলায় মুখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলাম। ঘটনাটি ছিল আমার সহপাঠী খুব জোরে ফুল সুইং শট খেলার সময় বেসবল ব্যাটটি তার হাত থেকে ছিটকে এসে সরাসরি আমার দুই চোখের মাঝখানে সজোরে আঘাত করল। 

হঠাত্র চারপাশটা অন্ধকার হয়ে যায়। এবং পরবর্তী কয়েক মুহূর্তের জন্য আর কিছুই আমার মনে নেই। ব্যাটটি মুখে এত জোরে আঘাত করেছিল যে নাক ভেঙ্গে ইউ আকৃতির হয়ে গিয়েছিল। মস্তিষ্কের নরম টিস্যুগুলাে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে খুলির অভ্যন্তরে ছড়িয়ে গিয়েছিল। 

তৎক্ষণাৎ মাথার ভেতরে তীক্ষ এক যন্ত্রণা অনুভব করলাম এবং একটু আগেও যে-আমি সুস্থ ছিলাম মাত্র সেকেন্ডের কম সময়ে সেই আমি ভাঙ্গা নাক, মারাত্মক জখম হওয়া মাথার খুলি এবং দুই চোখের স্থানচ্যুত মনিকোটা নিয়ে জ্ঞান হারালাম। 

Atomic habits bangla pdf

যখন চোখ খুললাম, অনেকগুলাে মানুষকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে। দেখলাম। কেউ কেউ সাহায্যের জন্য ছুটোছুটি করছিল। আমি নিচে তাকিয়ে দেখলাম আমার জামা রক্তে ভেসে গেছে। আমার এক সহপাঠী তার শার্টটি খুলে আমার হাতে দিল। 

ভাঙা নাক থেকে রক্তের স্রোত বন্ধ করতে আমি সেই জামা ব্যবহার করলাম। জ্ঞান ফেরার পর হতবাক এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কতােটা গুরুতর আহত হয়েছিলাম তা আমি সেসময় কল্পনাও করতে পারিনি। আমার শিক্ষক আমার কাঁধ শক্ত করে ধরলেন। আমরা নার্সের অফিসের দিকে দীর্ঘ পথচলা শুরু করলাম। 

মাঠের ওপারে, পাহাড়ের নিচে এবং স্কুলের দিকে। দীর্ঘ চলায় বন্ধুদের এলােমেলাে হাত আমাকে স্পর্শ করেছে, আমাকে সােজা করে ধরেছে। আমরা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে চললাম। 

কিন্তু কেউ সেসময় বুঝতে পারেনি প্রত্যেকটি মিনিট আমার জীবন বাঁচানাের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা যখন নার্সের অফিসে পৌছলাম, তিনি আমাকে একাধিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন। -“এটা কোন সাল?” -“১৯৯৮”, আমি উত্তর দিয়েছিলাম। 

যদিও আসলে ছিল ২০০২। -“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কে?” -“বিল ক্লিনটন”, আমি বলেছিলাম। সঠিক উত্তরটি ছিল জর্জ ডব্লিউ বুশ। -“তােমার মায়ের নাম কি? “উহ, উম।” আমি থামলাম। দশ সেকেন্ড কেটে গেল। “প্যাট্টি” আমি আকস্মিকভাবে বলেছিলাম, সেসময় বুঝিনি নিজের মায়ের নাম মনে করতে আমার দশ সেকেন্ড লেগেছিল। এটাই আমার মনে থাকা শেষ প্রশ্ন। 

হাসপাতালে এটমিক হ্যাবিটস
 
আমার মস্তিস্কের দ্রুত ফুলে যাওয়া এবং এতগুলাে আঘাত সামলাতে, সঠিকভাবে পরিচালনা করতে আমার দেহ অক্ষম ছিল এবং অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই আমি আবার হুঁশ হারিয়ে ফেলেছিলাম। কয়েক মিনিট পরে, আমাকে স্কুল থেকে বহন করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

হাসপাতালে পৌঁছানাের অল্প সময়ের মধ্যেই আমার শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে শুরু করে। তখন ঠিকমতাে একটু শ্বাস নেয়া এবং খাবার গেলার মতাে সাধারণ ফাংশনগুলাের জন্য শরীর লড়াই করছিল। 

সেইদিনের প্রথম খিঁচুনি হওয়ার সাথে সাথে আমি পুরােপুরি শ্বাস বন্ধ করে দিলাম। ডাক্তাররা আমাকে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য ছুটোছুটি শুরু করলেন এবং স্থানীয় সেই ছােট হাসপাতালটি পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টারে করে আমাকে সিনসিনাটির বড় হাসপাতালে পাঠানাের সিদ্ধান্ত নিলেন। 

জরুরি কক্ষের দরজা খুলে স্ট্রেচারে করে একটি অমসৃণ সাইডওয়াক দিয়ে দ্রুত হেলিপ্যাডের দিকে আমাকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন একজন নার্স দুলতে থাকা স্ট্রেচার সামলাচ্ছিলেন, অপরজন হাত দিয়ে আমরা নাকে থাকা টিউবে অক্সিজেন পাম্প করছিলেন। 

আমার মা, যিনি কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালে এসেছিলেন, হেলিকপ্টারে আমার পাশে বসেছিলেন। উড়ানাের সময় তিনি আমার হাত ধরে ছিলেন। আমি অজ্ঞান হয়েছিলাম এবং নিজে নিজে শ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। 

মা হেলিকপ্টারটিতে আমার সাথে ছিলেন আর আমার বাবা, ভাই এবং বােনদের কাছে আমার খবর দিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। কেন আমার ছােট বােনের অষ্টম শ্রেণির স্নাতােকত্তর অনুষ্ঠানটিতে তিনি থাকতে পারবেন না একথা আমার বােনকে বুঝিয়ে বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। 

নিজের ভাই ও বন্ধুদের দ্বায়িত্বে আমার ভাইবােনকে রেখে বাবা দ্রুত মায়ের সাথে দেখা করতে সিনসিনাটিতে চলে আসেন। যখন আমার মা এবং আমাকে বহনকারী জরুরি হেলিকপ্টারটি বড় হাসপাতালের ছাদে নামল, তখন হেলিপ্যাডে আগেই অবস্থান করে থাকা প্রায় বিশ জন চিকিৎসক ও নার্সের একটি দল আমাকে ট্রমা ইউনিটে নিয়ে যায়। 

এই সময়ের মধ্যে, আমার মস্তিষ্কের ফোলা এত মারাত্মক হয়ে উঠেছিল যে, বারবার আমার আঘাতজনিত খিঁচুনি হয়েই চলল। আমার ভাঙা হাড়গুলাে ঠিক করার দরকার ছিল, তবে আমার শরীর অপারেশন সহ্য করার মতাে অবস্থায় ছিল না। আরও খিচুনির পরে ডাক্তাররা উপায় না দেখে আমাকে ভেন্টিলেটার সাপাের্টে বিশেষ কৃত্রিম উপায়ে কোমায় রেখেছিলেন। 

আমার বাবা-মা এই হাসপাতালের সাথে অপরিচিত ছিলেন না। দশ বছর আগে, যখন আমার বােনের বয়স ছিলাে তিন বছর, সেসময় তার লিউকিমিয়া। ধরা পড়ার পরে তারা একই ভবনের নীচতলায় একই গেট দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। 

তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ। আমার ভাইয়ের বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস। আড়াই বছর যাবত কেমােথেরাপি, স্পাইনাল ট্যাপ এবং অস্থিমজ্জার বায়ােপসিসর পরে, আমার ছােট বােন সুস্থ দেহে ক্যান্সার মুক্ত হয়ে অবশেষে এই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। 

আর এখন দশ বছর নিরাপদ জীবন কাটানাের পরে, আমার বাবা-মাকে আবারও একই হাসপাতালে একই রকম উদ্বিগ্ন অবস্থায় নিজেদেরকে আবিস্কার করলেন, তবে এবার অন্য সন্তানের জন্য।

যখন আমি কোমায় পড়ে ছিলাম তখন হাসপাতাল থেকে আমার পিতা-মাতাকে। সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য একজন পাদ্রী এবং একজন সমাজকর্মীকে প্রেরণ করা হয়েছিল। 

একই পাদ্রীর সাথে একই হাসপাতালে এক দশক আগে সন্ধ্যায় আমার বাবা-মার দেখা হয়েছিল যখন তারা জানতে পেরেছিলেন আমার বােনের ক্যান্সার হয়েছে। দিন গড়িয়ে রাত ঘনিয়ে আসছিল, একের পর এক মেশিনের সাপাের্টে ডাক্তাররা আমাকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। 

আমার বাবা-মা হাসপাতালের বসার গদিতে উদ্বিগ্নতায়, ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেন। আর একটু পরপর চিন্তায় জেগে উঠতেন। পরবর্তীতে আমার মা আমাকে বলেছিলেন, 
“সেদিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও ভয়াবহ রাতগুলাের মধ্যে অন্যতম।”

জেমস ক্লিয়ার এর আরােগ্যলাভ

ঈশ্বরের করুণায়, পরের দিন সকালে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠল এবং একটা পর্যায়ে চিকিৎসকরা খানিকটা স্বস্তি বােধ করলেন এবং আমাকে কোমা থেকে রিলিজ করে দিলেন। অবশেষে আমি যখন জ্ঞান ফিরে পেলাম, আমি আবিষ্কার করলাম যে আমি গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। 

পরীক্ষা করার জন্য, একজন নার্স আমাকে নাক দিয়ে জোরে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে এবং একটি আপেল জুসের বাক্সটি শুকতে বলেছিলেন। এভাবে কিছু সময় শ্বাস নেয়ার ফলে আমার গন্ধ অনুভূতি ফিরে আসছিল, তবে একটা ব্যাপারে সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল- জোরের সাথে শ্বাস নেয়ার কারণে বাতাস আমার নাকের ভাঙা হাড়ের ভেতর দিয়ে আমার চোখের ভেতরে প্রবাহিত হওয়ায় আমার বাম চোখটিকে বাহিরের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। 

যার ফলে আমার সম্পূর্ণ মণিকোটা বেশ খানিকটা বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। আমার চোখের পাতা এবং অপটিক স্নায়ু খুব কষ্ট করে আমার মস্তিষ্কের সাথে চোখ সংযুক্ত করে ধরে রেখেছিল। চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, একসময়ে বায়ু নিঃশেষিত হওয়ার সাথে সাথে । 

আমার চোখ ধীরে ধীরে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাবে, তবে এটি কতটা সময় নেবে তা বলা মুশকিল। এক সপ্তাহ পরে আমার ভাঙ্গা স্থানগুলাে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল যাতে করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ধরে রাখা যায়।

Atomic habits bangla pdf by james clear

এরপর পৃষ্টা নং ৫৩ থেকে

অধ্যায় ৩ 

কীভাবে আরও ভাল এটমিক হ্যাবিটস তৈরি করা যায়?

১৮৯৮ সালে এডওয়ার্ড থনড্রাইক নামে একজন মনােবিজ্ঞানী একটি নিরীক্ষা করেছিলেন যার ফলে কীভাবে এটমিক হ্যাবিটস গঠিত হয় এবং কোন নিয়মগুলাে আমাদের আচরণকে নির্দেশ করে তার মূলসূত্রসমূহ বুঝতে আমাদের সাহায্য করেছিল। 

থর্নডাইকের বিড়াল নিয়ে মজার পরীক্ষা 

থর্নডাইক শুরুতে পশুদের আচরণ সম্পর্কে অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নেন ফলে প্রথম কয়েকটি বিড়াল নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। তিনি প্রতিটি বিড়ালকে একটি ডিভাইসের (যা গােলকধাঁধার বাক্স হিসাবে পরিচিত ছিল) ভেতরে রাখতেন। বাক্সটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যাতে বিড়ালটি একটি দরজা দিয়ে পালাতে পারে, তবে তার জন্য বিড়ালটিকে দরজা খুলতে হবে নিজের বুদ্ধিমত্তা প্রয়ােগ করে। 

“কিছু সাধারণ কাজ দ্বারা যেমন একটা সরু তারের লুপ ধরে টান দেয়া, একটা লিভারে চাপ দেয়া কিংবা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালে কেবল দরজাটি খুলত।” 

উদাহরণস্বরূপ, একটি বাক্সের ভেতরে ছিল লিভারে চাপ দিয়ে দরজা খােলার ব্যবস্থা, যদি বিড়াল এটাতে চাপ দেয়, তাহলে বাক্সের পাশের দরজাটি খুলে যাবে। একবার দরজাটি খােলার পরে, বিড়ালটি দ্রুত বের হয়ে বাইরে গিয়ে কাছেই রাখা একটি বাটি থেকে খাবার নিয়ে খেতে পারবে। 

বেশিরভাগ বিড়াল বাক্সের ভেতরে রাখার সঙ্গে সঙ্গে পালানাের জন্য উদগ্রীব হয়ে যেত। তারা বাক্সের কোণায় তাদের নাক দিয়ে ঠেলত, বিভিন্ন স্থানে। তাদের পাঞ্জাটি আটকে আটকে দেখত এবং আলগা বস্তুতে আঁচড় দিত। কয়েক মিনিট অনুসন্ধানের পরে বিড়ালগুলাে ম্যাজিকাল লিভারটিতে চাপ দিতে পারতাে, লিভারে চাপ দিতেই দরজাটি খুলে যেত এবং তারা পালিয়ে যেত।

থর্নডাইক অনেকগুলাে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বিড়ালের আচরণ খুব গভীরভাবে অনুসন্ধান করেন। শুরুতে বিড়ালগুলাে এলােমেলােভাবে বাক্সের চারপাশে ঘােরাঘুরি করতাে। তবে লিভারটিতে চাপ দেয়ায় দরজাটি খােলার সাথে সাথে শেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে প্রতিটি বিড়াল-ই শিখে গিয়েছিল কীভাবে লিভারে চাপ দিয়ে দরজাটি খুলতে হবে এবং বাক্স থেকে বেরিয়ে আসার এবং সুস্বাদু খাবারের পুরষ্কার জিততে হবে। 

বিশ থেকে তিরিশটি পরীক্ষার পরে, এই আচরণটি এতটাই স্বয়ংক্রিয় এবং অভ্যাসগত হয়ে উঠল যে বিড়ালগুলােকে বাক্সে রাখার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তারা দ্রুত পালাতে পারত। 

উদাহরণস্বরূপ, থর্নডাইক নােট করেছিলেন, “১২ নম্বর বিড়াল এই দরজা খােলার কাজটি সম্পাদন করতে পর্যায়ক্রমে নিম্নলিখিত সময়গুলাে নিয়েছিল—১৬০ সেকেন্ড, ৩০ সেকেন্ড, ৯০ সেকেন্ড, ৬০, ১৫, ২৮,২০,৩০, ২২, ১১, ১৫, ২০, ১২, ১০, ১৪, ১০, ৮, ৮, ৫, ১০, ৮, ৫, ১০, ৮, ৬, ৬, ৭।” প্রথম তিনটি পরীক্ষার সময়, বিড়াল গড়ে ১.৫ মিনিট সময় নিতাে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। শেষ তিনটি পরীক্ষার সময় এটি ৬.৩ সেকেন্ডের মধ্যে পালিয়ে যায়। 

অনুশীলনের সাথে সাথে, প্রতিটি বিড়াল কম ত্রুটি করেছে এবং তাদের ক্রিয়াগুলাে আরও দ্রুত এবং আরও স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠেছে। একই ভুলগুলাে পুনরাবৃত্তি করার পরিবর্তে, বিড়ালটি সরাসরি সমাধানের পথে যাওয়া শুরু করে। তার অধ্যয়ন থেকে থর্নডাইক ‘শেখার প্রক্রিয়া' এর ব্যাপারে ব্যাখ্যা করেছিলেন, “যে আচরণগুলাের মাধ্যমে সন্তোষজনক পরিণতি পাওয়া যায় সেগুলাের বারবার পুনরাবৃত্তি হয় এবং যেগুলাে অপ্রীতিকর পরিণতি দেয়। 

তাদের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।” তার কাজ, কীভাবে অভ্যাস আমাদের জীবনে গঠিত হয় তা নিয়ে আলােচনার জন্য একটি নিখুঁত সূচনা বিন্দু সরবরাহ করে। এটি কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তরও সরবরাহ করে, যেমন : Atomic habits bangla কী? আমাদের মস্তিষ্ক কেন এগুলাে আদৌ তৈরি করে? কেন আমাদের মস্তিষ্ক অভ্যাস তৈরি করে? 

একটি হ্যাবিটস হলাে এমন একটি আচরণ যে স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠার জন্য যথেষ্ট সময় পর্যন্ত পুনরাবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছিল। অভ্যাস গঠনের প্রক্রিয়াটি প্রচেষ্টা এবং ত্রুটি দিয়ে শুরু হয়। আপনি যখনই জীবনে কোনও নতুন পরিস্থিতির মুখােমুখি হন, আপনার মস্তিষ্ককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। 

আমি এই ব্যাপারে কি প্রতিক্রিয়া জানাবাে? আপনি যখন প্রথমবার কোনও সমস্যার মুখােমুখি হন, তখন কীভাবে সমাধান করবেন তা আপনি নিশ্চিত থাকেন না। থর্নড়াইকের বিড়ালের মতাে আপনি কোন জিনিসটি সমাধানের কাজ করে তা খুঁজে দেখার জন্য চেষ্টা করছেন মাত্র। 

এই সময়টায় মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক ক্রিয়াকলাপ সব থেকে বেশি থাকে। আপনি পরিস্থিতিটি খুব সচেতন ভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং কীভাবে আচরণ করবেন সে সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেন। আপনি প্রচুর নতুন তথ্য নিচ্ছেন এবং এগুলাে বােঝার চেষ্টা করছেন। 

কোন কার্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেখার জন্য আপনার মস্তিষ্ক ব্যস্ততার সাথে প্রক্রিয়াধীন থাকে। কখনও কখনও, কোন বিড়াল লিভারের উপর চাপ দেয়ার অনুরূপ, আপনিও কোন সমাধান পেয়ে যান। আপনি হয়ত ভীষণ উদ্বিগ্ন বােধ করছেন এবং আপনি আবিষ্কার করলেন যে এই অবস্থায় অনেকক্ষণ দৌড়ালে আপনার মন শান্ত হয়। 

আপনি সারাদিনের কাজ সেরে যখন প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন, আপনি আবিষ্কার করেছেন যে সে সময় ভিডিও গেম খেলা আপনার ক্লান্তি ভুলিয়ে মনকে শিথিল করে তােলে, এভাবেই আপনি খুঁজতে থাকেন, খুঁজতে থাকেন, প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন এবং তারপরেই হঠাই সমাধানস্বরূপ একটি পুরষ্কারের সন্ধান পেয়ে যান। 

যখনই আপনি অপ্রত্যাশিত পুরষ্কার খুঁজে পান, তখনই আপনি পরবর্তী সময়ের জন্য আপনার কৌশলটি বদলে ফেলেন। আপনার মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ এই পুরস্কার পাওয়ার পূর্ববর্তী কাজগুলােকে তালিকাভুক্ত করতে শুরু করে। 

“দাড়াও দাঁড়াও, এই জিনিসটাতাে বেশ ভালাে লাগছে। এটা পাওয়ার জন্য আমি ঠিক কি করলাম একটু আগে? সমস্ত মানব আচরণের পিছনে এই ফিডব্যাক লুপ বা প্রতিক্রিয়ার আবর্ত কাজ করে; আমরা চেষ্টা করি, ব্যর্থ হই, সেখান থেকে শিখি এবং অন্যভাবে চেষ্টা করি। 

অনুশীলনের মাধ্যমে, গুরুত্বহীন ক্রিয়াগুলাে ম্লান হয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াগুলাে আরও জোরদার হয়। আর এভাবেই অভ্যাস গঠিত হয়। আপনি যখনই বারবার একই সমস্যার মুখােমুখি হন, আপনার মস্তিষ্ক এটি সমাধানের প্রক্রিয়াটিকে স্বয়ংক্রিয়কণের কাজ শুরু করে। আপনার অভ্যাসগুলাে মূলত স্বয়ংক্রিয় সমাধানের একটি সিরিজ যা যেসব উদ্বিগ্নতা ও সমস্যার আপনি নিয়মিত মুখােমুখি হন সেগুলাের সমাধান করে। 

এটমিক হ্যাবিটস pdf লেখক পরিচিত

জেমস ক্লিয়ার একজন লেখক এবং বক্তা। যিনি মূলত অভ্যাস, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ক্রম উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন। তাঁর কাজ নিউইয়র্ক টাইমস, এনট্রোপ্রেনিয়র, টাইমস এবং সিবিএস দ্য মর্নিং-এ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ওয়েবসাইটে প্রতিমাসে কয়েক মিলিয়ন দর্শনার্থী আসে এবং লক্ষাধিক মানুষ তার জনপ্রিয় ইমেল নিউজলেটার জেমসক্লিয়ার এর সাবস্ক্রাইবার।

তিনি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির নিয়মিত স্পিকার এবং তাঁর শেখানাে পাঠ এবং প্রক্রিয়া এনএফএল, এনবিএ, এবং এমএলবি-র দল ব্যবহার করে। 

দ্য হ্যাবিটস একাডেমিতে তার অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে, ক্লিয়ার ১০,০০০ জনেরও বেশি লিডার, ম্যানেজার, কোচ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যারা জীবন এবং কাজের ক্ষেত্রে আরও ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে আগ্রহী তাদের দ্য হ্যাবিটস একাডেমি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি প্রিমিয়াম প্রশিক্ষণ প্যাটফর্ম, যেখান থেকে জেমস ক্লিয়ার এর এটমিক হ্যাবিটস সম্পর্কে আরও ভালভাবে শিখতে পারবেন।

এটমিক হ্যাবিটস pdf অনুবাদক পরিচিতি

লায়েক আহমেদ ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ সালে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী জেলায় জনাগ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ এ। এরপর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। প্রিয় শখ বই পড়া এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ানাে। লেখালেখির হাতেখড়ি স্কুল জীবনে। লায়েক আহমেদ অনুদিত বই পড়তে পড়তেই শখের বশে অনুবাদ শুরু করেন। Atomic habits bangla pdf তার প্রথম অনুবাদগ্রন্থ।

এটমিক হ্যাবিটস pdf


Book Publisher Author  F Size
Atimic Habits Bangla Pdf  ইমপ্রেস বুকস রাসেল এ কাউসার 4 মেগাবাইট
Bookshop Price Language  Page
Durdin Magazine Only 225 Taka English  376



জেমস ক্লিয়ার বাংলা অনুবাদ বই

Tags

Post a Comment

0Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !