নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে, নিজের মনুষ্যত্ব বিকশিত করতে, জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে কিভাবে নিজের ব্যক্তিত্ব তৈরি যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে আত্মনির্মাণ বইটিতে।
আমরা দেখতে পারবো কিভাবে একজন মানুষ তার ভালো-মন্দ দোষ গুণ ইত্যাদি খোঁজার মাধ্যমে প্রতিদিনকার কাজকর্মে কিছু নিয়ম মেনে নিজের জীবন গড়তে পারে।
সফলতার জন্য কি প্রয়োজন এবং সফল হতে হলে নিজেকে গড়ার গুরুত্ব কতটুকু আত্মনির্মাণ এর মাধ্যমে কিভাবে সফলতা পাওয়া যাবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হাসি দুঃখ কান্না বেদনা সবকিছু ছাপিয়ে কিভাবে আমরা আমাদের ভুলগুলো শোধরাতে পারি এবং সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারি।
এই বইটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিভাবে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারি, নিজের মন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারি, কিভাবে জীবন যাপন করলে একটি সফল জীবন পেতে পারি, এমন কি ব্যর্থতা এলে ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারি, এবং চূড়ান্ত সফলতা পৌঁছাতে পারি। সবকিছু নিয়ে মহাজাতক আত্মনির্মাণ বইটি লিখেছেন।
আত্মনির্মাণ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এমন কিছু কর্ম পদ্ধতি দেখানো হয়েছে যা আমাদের রোজকার আমাদের কর্মকাণ্ডে আমরা যেসব ভুলটি করে থাকি সেগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিভাবে সমাধান করবেন তা বলে দেওয়া হয়েছে। আত্মনির্মাণ বইটি আমাদেরকে এমন সব শিক্ষা প্রদান করে যা আমাদের জীবন যাপনকে আরো সমুন্নত করে তোলে। এই বই পাঠের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনের নতুন গন্তব্য খুঁজে পাই, আমাদের মধ্যে যারা খুব হতাশ হয় এবং ব্যর্থতা চারদিকে ঘিরে ফেলেছে তাদের জন্য এই বইটি বেশ উপকারী। এই বইটি পাঠের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত আমাদের সঠিক ভাবে কার্য সম্পন্ন করতে পারব যে কারণে এই বইটি পাঠ করা খুবই জরুরী। আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত একটি বিল্ডিং যেমন একটি একটি ইটের মাধ্যমে গড়ে ওঠে সুবিশাল অট্টালিকা হয়, তেমনি আত্মনির্মাণ বইয়ে বলা হয়েছে এমনসব কর্মপদ্ধতি যা ছোট ছোট ইটের মতোই গাঁথুনীতে আপনাকে এনে দেবে সুবিশাল অট্টালিকার মতো সফলতা।
মানুষের দৈনন্দিন জীবন এতটা ব্যস্ততাময় এবং প্রার্থীব হয়ে গেছে যে মানুষ এখন নিজের নির্মাণে খুবই অমনোযোগী। টাকার পিছনে বা স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে একটা সময় হতাশ এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আত্মনির্মাণ বইটি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় কিভাবে আমরা দীর্ঘ সময় আমাদের তারুণ্য ধরে রাখতে পারি, কিভাবে আমরা ইচ্ছেশক্তি মাধ্যমে আমাদের সফলতা অর্জন করতে পারি। প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিশ্রমী প্রাণী পিঁপড়া তার মত হতে পারি। আমরা সবাই জানি পরিশ্রম ব্যতীত সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়, কিন্তু এই পরিশ্রম করতে গিয়ে আমরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হয় আমরা দৈনিক কত ঘন্টা কিরূপ শ্রম দিব কি পদ্ধতিতে দিব, কতটুকু সময় দিলে আমরা আমাদের কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারব, যাতে আমাদের দেহ মন সুস্থ থাকে। সেটা বুঝতে পারবো এসব কিছু জানার জন্য অবশ্যই আমাদের আত্মনির্মাণ পিডিএফ বইটি ডাউনলোড করে পড়তে হবে।
জীবনে সফলতা পাবার আগে সবচেয়ে বেশি জরুরি আপনি কেন সফলতা পেতে চান? আপনার জীবনের অর্থ কি? আপনি কেন বেঁচে থাকতে চান? জীর্ণশীর্ণ রুক্ষ এই পৃথিবীতে এত রোগ-শোক দারিদ্র সবকিছু ছাপিয়ে আপনি কেন বেঁচে থাকবেন? সেই ব্যাপারটা বুঝতে হলে পড়তে হবে আত্মনির্মাণ। আমরা অনেকেই আমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারিনা, যে কারণে জীবন আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে বা আমরা একটা সময় কোথায় পৌছাবো সেটা নির্ধারণ করতে পারিনা। জীবন সম্পর্কে আমাদের যে কি লক্ষ্যস্থল তা স্থির না থাকে তবে আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে কখনো পৌঁছাতে পারবো না। বেশিরভাগ মানুষকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় বলুনতো আপনার জীবনের লক্ষ্য কি তারা সবাই নিজেদের জীবন নিয়ে সন্দিহান থাকে, তারা লক্ষ্যস্থল নিয়ে কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে। কিছু বলতে পারেনা। যাদের জীবনের লক্ষ্যই নিজেরা জানে না তারা কি করে একটি ভালো জায়গায় পৌঁছাবে? আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যস্থল আমাদের সফলতায় পৌঁছাতে চাইলে অবশ্যই আমাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে হবে, বুঝতে হবে। আমাতের মনোদৈহিক এবং মানসিক সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে উপলদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই আত্মনির্মান বইটি পাঠ আবশ্যক।
ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দী হস্তিশিশু আদরিণী— Atmonirman pdf
মায়ের সাথে বনবাদাড় ভেঙে চষে বেড়ায় মুক্তির আনন্দে। এ আনন্দে ছেদ পড়ল একদিন। শিকারিদের হাতে ধরা পড়ল সে। পায়ে শক্ত শিকল পরিয়ে বিক্রি করে দেয়া হলাে সার্কাস পার্টির কাছে । সার্কাসের পশুপালক তাকে ছ'ফুট লম্বা লােহার শিকল দিয়ে বিরাট থামের সাথে বেঁধে রাখল।
বনের মুক্ত প্রাণী আদরিণী বন্দী হয়ে গেল ছ'ফুট ব্যাসার্ধের বৃত্তের মাঝে। কিশােরী আদরিণীর কাছে এ এক অসহ্য যন্ত্রণা। বারবার জোরে টান মেরে শিকল ছিড়ে ফেলতে চেষ্টা করতে থাকে। চেষ্টায় লাভ হয় না কিছুই। শুধু পা রক্তাক্ত হয়ে উঠে। ব্যথা ও যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়। রক্তাক্ত পায়ে টান পড়লে ব্যথা আরও বাড়ে। শিকল ছেড়ে না। মুক্তিও মেলে না। আস্তে আস্তে তার বিশ্বাস জন্মাতে লাগল, এ শিকল ভাঙা যাবে না। ভাঙতে গেলে ব্যর্থতাই আসবে, ব্যথাই বাড়বে।
আদরিণী বড় হতে লাগল। কিন্তু শিকল সে ভাঙতে পারল না। আস্তে আস্তে তার মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও মন থেকে বিলীন হয়ে গেল। তার পৃথিবী সীমিত হয়ে গেল ছ'ফুট শিকলের বৃত্তের মাঝে। পায়ে একটু টান পড়লেই বােঝে তার সীমানা শেষ । এতেই সে অভ্যস্ত হয়ে উঠল। এখন আর শিকল বাধার জন্যে মােটা শক্ত কাঠের খুঁড়ির প্রয়ােজন হয় না।
ছাগল বাধার ছােট খুঁটি হলেই চলে। পরিণত বয়সে বিশাল দেহ ও বিপুল শক্তির অধিকারী হওয়া সত্বেও আদরিণী তার দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ধারণার নিগড়েই আটকে থাকল। এক ঝটকায় খুঁটি থেকে নিজেকে মুক্ত করার শারীরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তার মনে বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে যে এই ছ'ফুট ব্যাসার্ধের বৃত্তই তার পৃথিবী। এটাই তার বিধি। এটাই তার নিয়তি। যখনই তার পায়ে একটু টান লাগে তখনই সে ধরে নেয় এর বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। সার্কাস দলের সাথে সে নানা জায়গায় যায়। শেখানাে খেলা দেখায়। একটি ছােট খুঁটিতেই এখন তাকে বেঁধে রাখা হয়।
সার্কাসের তাঁবুতে আগুন লাগল একদিন। সার্কাসের লােকজন যার যার জীবন নিয়ে পালাল। আগুন নেভানাের পর দেখা গেল অনেক কিছুর সাথে আদরিণীও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পায়ের সেই শিকল রয়েছে। খুঁটি পুড়ে গেছে। পর্যাপ্ত শারীরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দী আদরিণী মুক্ত হওয়ার কোন চেষ্টাই করেনি।
আদরিণীর এই কাহিনী কোন বানানাে গল্প নয়। যারা সার্কাসের দল দেখেছেন, তারা খোজ নিলেই জানতে পারবেন সার্কাসের বিশালকায় হাতিগুলােকে এভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সার্কাসের বহু হাতি এভাবেই মারা গেছে অগ্নিকাণ্ডে ।।
হতভাগিনী এই হাতির মতই ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দী নরনারীর সংখ্যা আমাদের সমাজে মােটেও কম নয়। কত ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস যে আমাদের মাঝে রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না।
যেমন:
- আমার পােড়া কপাল।
- এত দায়িত্ব পালনের যােগ্য আমি নই।
- সে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনাে করেছে।
- তার সাথে প্রতিযােগিতায় আমি পারব না,
- এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানাে মুশকিল। জীবনটা আমার দুঃখে-দুঃখেই যাবে।
- বড় কিছু করা আমার কপালে নেই।
- আমার কপালে সুখ সয় না।
- আমার এই অসুখ ভাল হবে না।
এরকম হাজারও নেতিবাচক ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের নিগড়ে আমরা বন্দী জীবন যাপন করছি।
বিশ্বাস ভ্রান্ত হােক বা সঠিক হােক, তার একটি সম্মােহনী ক্ষমতা রয়েছে।
আত্মনির্মাণ পিডিএফ
ম্যাক্সওয়েল মলজ বিশ্বাসকে এক ধরনের আত্মসম্মােহন বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিটি মানুষই কোন না কোনভাবে কিছুটা হলেও সম্মােহিত হয়ে থাকে। সে কখনও নিজের অজ্ঞাতসারে অন্যের ধারণা গ্রহণ করে সম্মােহিত হয়, বা নিজের সম্পর্কে বারবার কোন ধারণা ব্যক্ত করে তা বিশ্বাস করে সম্মােহিত হয়।
একজন সম্মােহনকারী সম্মােহিত ব্যক্তির মনে কোন নেতিবাচক ধারণা ঢুকিয়ে দিলে যে প্রভাব সৃষ্টি করবে ঠিক সেই একই ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে এই নেতিবাচক বিশ্বাস বা ধারণা। আমরা জানি, সম্মােহিত অবস্থা হচ্ছে মনােযােগ প্রক্ষেপণের ফলে সৃষ্ট সংকীর্ণ পরিধিতে চেতনার এক তুঙ্গ অবস্থা।
চেতনার এই পরিধিতে মস্তিষ্কের ডান বলয়ের চিত্রকল্প সুস্পষ্ট প্রক্ষেপণের ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় এবং এ ক্ষমতা বাম বলয়ের সকল প্রতিবন্ধকতা, অর্থাৎ যুক্তিগত বাধাকে পাশে সরিয়ে দেয়। আর আপনারা সবাই জানেন, সম্মােহিত অবস্থায় একজন মানুষ যে অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করে তা তার মাঝে আগে থেকেই সুপ্ত ছিল।
কিন্তু সে এ ব্যাপারে সচেতন ছিল না বলে আগে এ ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারেনি। যারা ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দী তারা সব সময় নিজের অজ্ঞাতসারেই নিজের শক্তি ও ক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলে নিজের মধ্যে সুপ্ত অফুরন্ত সম্ভাবনা সম্পর্কে বেখবর থেকে যায়। পারিপার্শ্বিক ব্যর্থতা ও নির্জীবতায় আক্রান্ত হয়। ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে ডক্টর ম্যাক্সওয়েল মলজের সাইকোকেবারনিটক্স পদ্ধতিতে বেশ সহজ কিছু উপায় বাতলানাে হয়েছে।
আপনি অনায়াসে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন।
ভ্রান্ত বিশ্বাস চিহ্নিত করার উপায় আপনি কি কোন ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দী হয়ে আছেন?
খুব সহজেই তা খুঁজে বের করতে পারেন। হাতে কাগজ-কলম নিন। নিচের প্রশ্নগুলাে পড়ুন এবং জবাব লিখুন।
১. বাস্তবে আপনার প্রতি হুমকি নয় এমন কোন পরিস্থিতিতেও কি আপনি ভীতসন্ত্রস্ত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন? এই পরিস্থিতিগুলাে কী কী?
অচেনা লােককে টেলিফোন করা? মিস্ত্রির সাথে মেরামতি কাজের বিল নিয়ে আলােচনা বা পদস্থ কারও সাথে সাক্ষাৎ করা? কেন আপনি মনে করেন যে এ ধরনের পরিস্থিতি আপনার শরীর-মনের জন্যে ক্ষতিকর?
২. আপনি কি মনে করেন যে, আপনা-আপনিই এমন সব ঘটনা ঘটে যা আপনার সাফল্যের পথে অন্তরায়? আপনি কী পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করছেন? সুনির্দিষ্ট কী পরিস্থিতি আপনার জন্যে বাধা সৃষ্টি করছে?
নিম্নোক্তভাবে আপনার জবাব লিখুন:
আমি যদি এমন হতাম।
যদি ঘটনাটা এভাবে ঘটতো।
৩. লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে আপনার কি কখনও মনে হয়েছে যে, আমি পারব না, আমি ভাল নই, আমি যােগ্য নই, আমি এর উপযুক্ত নই?
এ ধরনের চিন্তা কী পরিস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে? আপনি নিজেকে কী বলেছেন? আপনার লক্ষ্য কী ছিল?
নিজের উত্তর এভাবে লিখুন:
আমি মনে করি যে আমি পারব না, কারণ...
৪. আপনার কি কখনও মনে হয়েছে যে, আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছার পথে এক ধরনের দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে যাচ্ছেন?
এক ধরনের অপবাদে জড়িয়ে পড়ছেন? কী চেয়েছিলেন আপনি? পেশা বা চাকুরি পরিবর্তন? সম্পর্ক উন্নয়ন?
ব্যক্তিগত কোন উদ্যোগ? কী অনুভূতির পরিপ্রেক্ষিতে আপনি পরিকল্পনা করেছেন? সুনির্দিষ্টভাবে লিখুন।
আত্মনির্মাণ pdf Bangla
সব লেখা শেষ করেছেন? আপনার ব্যর্থতার জন্যে যে কারণগুলাে বের করেছেন সেগুলাে ভালভাবে দেখুন।
ভয়, সংশয় বা আত্মধিক্কার-যাই আপনি বর্ণনা করেছেন তার সবটাই ভ্রান্ত বিশ্বাসে নিজের অজ্ঞাতে সম্মােহিত হওয়ারই পরিণাম।
অবচেতন মনের কাছে বারবার একই পুরানাে ভাঙা রেকর্ড বাজানাের ফলশ্রুতি।
আপনি এখনও এ কথাগুলাে হয়তাে মানতে পারছেন না। আপনি এখনও হয়তাে বলছেন,
এ ধারণা বা বিশ্বাসগুলাে তাে মিথ্যা নয়। আমি তাে অপমানিত হয়েছি। আমি তাে এ কাজের যােগ্য নই! অন্যকে আকৃষ্ট করার কোন গুণাবলী তাে আমার নেই!
ভ্রান্ত বিশ্বাস খুঁজে পাওয়ার উপায় — আত্মনির্মান
যদি তাই হয় তবে আপনাকে আরও গভীরে যেতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে আপনার ভ্রান্ত বিশ্বাসের উৎস। কাগজ-কলম নিন।
নিচের প্রশ্নগুলাের জবাব লিখুন:
১. বুঝতে শেখার পর আপনার প্রথম স্মৃতি কী? --ঘটনাটি কী ছিল? -বয়স কত ছিল? আপনার সাথে কে ছিল? কী অনুভূতি মনে পড়ছে?
২. ছােট শিশু হিসেবে আপনি কেমন ছিলেন? আপনার ব্যাপারে পরিবারে কোন গল্প প্রচলিত? আপনি কি মনে করেন যে আপনি পরিবারের কাঙ্ক্ষিত সন্তান?
হ্যা বা না। আপনার এই ধারণার সমর্থনে কোন ঘটনা কাজ করছে?
আপনার ডাক নাম কী?
আপনি কি পরিবারের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন?
হ্যা বা না।
উত্তর যদি না হয় তবে এর সমর্থনে কোন ঘটনা রয়েছে কি?
স্কুলে পড়াশােনা শুরু করার আগের সময়কে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
৩. প্রাইমারি স্কুলে আপনার জীবন কেমন ছিল?
কোন কোন ঘটনা আপনার বেশ মনে আছে? আপনার শিক্ষকরা আপনার সম্পর্কে কী বলতেন? আপনার প্রগ্রেস রিপাের্টে সাধারণভাবে কী লেখা হত?
ছােটবেলায় বন্ধুত্ব কতটুকু করতে পারতেন? খুব সহজে
কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল
তেমন কোন বন্ধু ছিল না।
আপনার সহপাঠীদের আপনার সম্পর্কে কেমন ধারণা ছিল?
এই উত্তরগুলাের সাথে আগের প্রশ্নের উত্তরগুলাে মিলিয়ে দেখুন। আপনার ভ্রান্ত বিশ্বাসের উৎসগুলাে খুজে পাবেন।
মনােবিজ্ঞানীরা বলেন, স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত শির নিজের সম্পর্কে ধারণা জন্মে পারিবারিক পরিমণ্ডলে তার সম্পর্কিত কথাবার্তা ও আলাপ-গল্প থেকে।
স্কুলে যাওয়ার পর বাইরের প্রভাব ঘরে অর্জিত নিজ সম্পর্কিত যােগ্যতা বা অযােগ্যতার ধারণাকে জোরদার করে।
ছোটবেলার স্মৃতিই আপনার ভ্রান্ত বিশ্বাসের উৎস খুঁজে বের করতে সক্ষম।
কোয়ান্টাম মেথড - Attonirman by Mohajatok
বাবা/মা/ভাই/বোন বা আত্মীয়দের আপনার সম্পর্কিত নেতিবাচক কথার ক্রমাগত প্রভাবই আপনার অসীম শক্তিকে সীমিত করে ফেলে। নিজের অসীম শক্তি আপনার অগােচরেই বন্দী হয়ে পড়ে।
এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্ধীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী?
উপায় খুবই সহজ। আপনি জানেন আপনার এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের কোন যৌক্তিক ভিত্তি নেই। কিছু অযৌক্তিক নেতিবাচক কথার বারবার পুনরাবৃত্তি আপনার আসল শক্তিকে শৃঙ্খলিত করে ফেলেছে। আর আপনার এই ভ্রান্ত বিশ্বাস এখন আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে কোন অভ্যাস বদলানাে যায়। একটু সচেতন প্রচেষ্টা চালালেই এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দীদশা থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন। কারণ মানুষ হিসেবে আপনি অনন্য। পৃথিবীর ৫০০ কোটি মানুষের কেউই আপনার মত নয়। সবার মত আপনিও অনন্য কিছু গুণাবলী নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। এই গুণাবলীকে আপনিও বিকশিত করতে পারেন। কারণ সভ্যতার সব কিছু মানুষের সৃষ্টি। আর আপনিও মানুষ।
কোয়ান্টাম মেথড অনুসারে আপনি নেতিবাচক চিন্তা ও কথা তথা ভ্রান্ত বিশ্বাসের বন্দীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় আলফা স্টেশনের ওয়েটিং রুমে বসে সকল নেতিবাচক চিন্তা ও ধারণাকে এক এক করে লিখে তা ক্রস চিহ্ন দিয়ে বাতিল করে দিন। বাস্তবে কোন নেতিবাচক চিন্তা এলে সাথে সাথে তওবা, তওবা বা বাতিল, বাতিল বলে তার প্রভাব নষ্ট করে দিন। আর মনের বাড়িতে বসে সব সময় আত্মশক্তি জাগ্রত হওয়ার অটোসাজেশন দিন বা বারবার ইতিবাচক প্রত্যয়ন করুন।
আত্মপ্রত্যয়নের পুনরাবৃত্তি করুন। দেখবেন ভ্রান্ত বিশ্বাসের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়ে অসীম সম্ভাবনার আকাশে আপন মহিমায় বিচরণ করছেন আপনি।
আত্মনির্মাণ - মহাজাতক
আগে জানুন আপনি কেন বাচবেন জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভােগ করতে হলে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য জানা প্রয়ােজন। আপনি যদি আপনার বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করতে পারেন তাহলে পারিপার্শ্বিক অনেক কিছুর অবাঞ্ছিত প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।
কিন্তু যদি সরাসরি কাউকে প্রশ্ন করা হয় যে, আপনার জীবনের লক্ষ্য কী, তাহলে দেখা যাবে যে শতকরা ৯৫ জনই আমতা-আমতা করছেন।
কিছুই বলতে পারছেন না। অথচ জীবনের কাছ থেকে আপনি কী চান তা যদি আপনার কাছে সুস্পষ্ট না থাকে তাহলে জীবন আপনাকে কোথাও নিয়ে পৌছাবে না।
আপনি হাল ছাড়া নৌকার মত জীবনসাগরে শুধু ঘুরপাক খাবেন।
আপনি যদি ইতিমধ্যেই জীবনের লক্ষ্যস্থির করে না থাকেন তা হলে এখনই উদ্যোগ নিন। নিরিবিলি জায়গায় একটি টেবিলের সামনে কাগজ-কলম নিয়ে শান্ত হয়ে বসুন।
হালকাভাবে চোখ বন্ধ করুন। ধীরে ধীরে লম্বা দম নিন। ধীরে ধীরে দম ছাড়ুন। ৫/৭ বার এভাবে দম নিন ও দম ছাড়ুন। এরপর এক মিনিটের মত দম খেয়াল করুন। অর্থাৎ, চোখ বন্ধ রেখেই নাক দিয়ে কিভাবে বাতাস ফুসফুসে যাচ্ছে ও বেরিয়ে আসছে সেদিকে মনােযােগ দিন।
এতে দেখবেন আপনার মনে এক প্রশান্ত ভাব চলে আসছে। আপনার মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করুন:
১. কী করতে আমার সবচেয়ে ভাল লাগে?
২. আমি কী করতে চাই?
৩. কখন আমার নিজের জীবনকে সবচেয়ে অর্থপূর্ণ মনে হয়েছিল?
৪. আমার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?
৫. কী আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়?
প্রতিটি প্রশ্নকে মনের গভীরে ছেড়ে দিন। একই ধরনের আরও বহু প্রশ্ন এসে ভিড় করতে পারে। যত প্রশ্ন আসে আসতে দিন। মনের গভীর থেকে উত্তর আসার সুযােগ দিন। যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করার প্রয়ােজন নেই।
অনুভূতিগুলােকে প্রাধান্য পেতে দিন। উত্তর যাই আসতে থাকুক, চোখ মেলে লিখে ফেলুন। অনেক চাওয়া, অনেক কথা হুড়মুড় করেও চলে আসতে পারে ? আসুক।
কথাগুলােকে লিখে ফেলুন। প্রথম অবস্থায় যে কথাগুলাে আসবে এর বেশির ভাগই সম্ভবত সচেতন। মনের আকাঙ্ক্ষা। লেখা শেষ হলে আবার চোখ বন্ধ করে উত্তর অন্বেষণ করুন।। আস্তে আস্তে মনের আরও গভীরে প্রবেশ করুন। জবাব পেয়ে যাবেন। এক বসায় বা এক দিনে জবাব নাও আসতে পারে।
প্রয়ােজনে একাধিকবার বসুন। জবাব আপনি পাবেনই।
প্রশ্নগুলাের জবাব পাওয়ার পর আবার নিজেকে প্রশ্ন করুন:
১. আমার এই চাওয়াগুলােকে বাস্তবায়িত করার পথে অন্তরায় কী?
২. কেন আমার চাওয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে না?
৩. চাওয়াগুলােকে বাস্তবায়িত করার পথে পারিপার্শ্বিক বাধাগুলাে কী?
৪. চাওয়াগুলােকে বাস্তবায়িত করার পথে আমার নিজের দিক থেকে কী কী বাধা কাজ করছে?
প্রশ্নগুলাের জবাব পাওয়ার জন্যে নিজেকে সময় দিন। আত্মনিমগ্ন থাকুন। মনের গভীর থেকে জবাবগুলাে আসতে দিন। জবাব এলে চোখ মেলে তা সামনে।
আত্মনির্মাণ বই মহাজাতক
ভাল আছি! ভাল থাকুন! সফলতা হচ্ছে এক বিরামহীন সফর। সফলতা গন্তব্য নয়। সফলতা গন্তব্যে পৌছানাের একটি পথ।
আর গন্তব্যে পৌছার জন্যে পথ পরিবর্তনেরও প্রয়ােজন হতে পারে। আপাত দৃষ্টিতে ব্যর্থতাও পরিপূর্ণ সফল জীবনের জন্যে মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।
আত্ম-উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডেনিস ওয়েটলি একটি চমত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।
ঘটনাটি ১৯৭৯ সালের। ডেনিস ওয়েটলি শিকাগাে থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে যাবেন। সেখানে তার বক্তৃতা দেয়ার কথা। ব্যস্ততাকে সামাল দিয়ে শিকাগাের ওহারা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছে দেখেন দেরি হয়ে গেছে। দৌড়ে টার্মিনালে পৌছে দেখেন গেট বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানে। ওঠার সিড়ি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। গেট কীপার মহিলাকে তিনি বিমানটি থামানাের জন্যে অনুনয়, অনুরােধ, তর্ক বিতর্ক করলেন। কোন লাভ হলাে না। চোখের সামনে বিমানটিকে রানওয়ে দিয়ে চলে যেতে দেখলেন।
রাগে ক্ষোভে ঝড়ের বেগে তিনি ফিরে এলেন টিকেট কাউন্টারে। আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি লাইনে দাড়িয়ে আছেন। এ সময় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হলাে । তিনি লাইনে দাঁড়ানাে অবস্থায়ই জানতে পারলেন, যে বিমানে তার যাওয়ার কথা ছিল, তা আকাশে উঠার সাথে সাথে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের একটি ইঞ্জিন ভেঙে রানওয়েতে পড়ে যায়। হাইড্রোলিক লাইন ও কন্ট্রোল কেবল ছিড়ে যায়। পাইলট বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। বিমানের আরােহী ও ক্রু সবাই নিহত
হয়।
ডেনিস ওয়েটলি এই ঘটনার সুদূর প্রসারী প্রভাব সম্পর্কে লিখেছেন, 'আমি টিকিট লাইন ত্যাগ করে এয়ারপাের্ট হােটেলে একটা রুমে উঠলাম। বিছানার পাশে কার্পেটের ওপর নতজানু হয়ে সেজদা করলাম।
স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করে প্রার্থনা করলাম। এক যুগ পার হয়ে গেছে। এখনও ফ্লাইট ১৯১-এর টিকিটটি আমার কাছে রয়েছে। আমি কখনও টাকা ফেরত নেয়ার জন্যে টিকিটটি ট্রাভেল এজেন্টের কাছে পাঠাইনি। আমি এই টিকিটটি আমার অফিস কক্ষে বুলেটিন বাের্ডে আটকে রেখেছি। এই টিকিটটি নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিদিনই আমার জন্যে ক্রিসমাস। আমি বেচে আছি এটাই তাে অনেক বড় রহমত।
পরিপূর্ণ জীবনের জন্যে আত্মউন্নয়ন pdf
১. মানুষকে গুরুত্ব দিন
কোনটা প্রয়ােজনীয় আর কি করা ভাল তা বুদ্ধিমত্তার সাথে বিবেচনা করুন। অনেকেই আছেন যারা মূলত নিঃসঙ্গ ও ক্লান্তিকর জীবন যাপন। করেন। কারণ তারা ব্যক্তিগত সম্পর্কে অবহেলা করেছেন। অধিকাংশ সময়ই তারা কাজ বা পেশাকে এত বেশি গুরুত্ব দেন যে, বন্ধু ও পরিবার পুরােপুরি বঞ্চিত হয়।
খ্যাতি বা অর্থের পেছনে এরা এতটা অন্ধের মত ছােটেন যে স্ত্রী-সন্তান, বাবামা কাউকেই কোন সময় দিতে পারেন না। ফলে পরবর্তী সময়ে অর্থ ও খ্যাতির মাঝেও একেবারে নিঃসঙ্গ ও বঞ্চিত অবস্থায় পড়ে যান তখন তিনি সন্তান বা স্ত্রীর সময় কামনা করেন।
কিন্তু দেখা যায় যে, স্ত্রী বা সন্তানের তাকে দেয়ার মত সময় নেই। তারা তাদের নিজস্ব জগৎ গড়ে তুলেছে। তাই পরিবারের জন্যে, বন্ধুদের জন্যে, আত্মীয়দের জন্যে, সামাজিক কাজের জন্যে আগে থেকেই সময় বের করে নিতে হবে।
বাকি অংশ পড়তে আত্মনির্মাণ pdf - Attonirman pdf বইটি কেনার জন্য পাঠককে উৎসাহিত করা হলো।