সুইচ গিয়ার এন্ড প্রটেকশন PDF Free

5 minute read
0
মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবাণীতে সুইচগিয়ার অ্যান্ড প্রটেকশন বইটি প্রকাশিত হলাে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল ইলেকট্রিক্যাল টেকনােলজির বই বের করার। সে ইচ্ছা এই বইটি বের করার মাধ্যমে পূরণ হলাে। 

Switchgear and Protection Bangla pdf

বইটি ইলেকট্রিক্যাল ও পাওয়ার টেকনােলজির ৮ম পর্বের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত। এই বইটির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে মহান আলাহ তায়ালা তওফিক দিলে আরাে বই প্রকাশের ইচ্ছা আমার রয়েছে। 

সুইচ গিয়ার এন্ড প্রটেকশন

আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন বাংলায় বই পাওয়া যেত না। পরবর্তীতে বাংলা বই বের হওয়া শুরু হলে অনেক লেখকই বই লিখেছেন। আমার এ বইটিতে প্রত্যেক অধ্যায়ের বিশদ আলােচনা করেছি এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সমস্যার সমাধান করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা অতি সহজেই বুঝতে পারে। 

বইটি প্রণয়নে অনেকেই আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তার মধ্যে পাবনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের চীফ ইনস্ট্রাক্টর (নন-টেক) জনাব মােঃ মােশারফ হােসেন সাহেব এবং খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও (ওয়ার্কশপ সুপার) জনাব খবির উদ্দিন সাহেব বই লিখতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। 

এছাড়াও পাবনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বিদ্যুৎ বিভাগের সকল শিক্ষকগণ ও ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহের কারণেই বইটি লেখা। সবাইকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। 

বইটি টেকনিক্যাল প্রকাশনার প্রকাশক জনাব মােঃ সাইফুল ইসলাম সাহেবকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি বইটি প্রকাশ করার জন্য। অসাবধানতাবশত ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে। 

বইটির যেকোনাে ভুল-ভ্রান্তি অথবা বইটির ব্যাপারে যেকোনাে উপদেশ সাদরে গ্রহণ করা হবে। বইটিতে যদি কারাে সামান্য উপকারে আসে তবে আমার এ শ্রম সার্থক হবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখকের কথা, মােঃ মসিউর রহমান।

সুইচগিয়ার কি?

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমকে শর্ট-সার্কিট এবং অন্যান্য ত্রুটিজনিত ক্ষতির হাত হতে রক্ষার জন্য ব্যবস্থা রাখতে হয়। এই কাজের জন্য সুইচগিয়ার ব্যবহার করা হয়, যার সাহায্যে ঐ ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাছাড়া স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক অবস্থায় কোনাে নির্দিষ্ট এলাকার পাওয়ার সিস্টেমকে অন বা অফ করে দেওয়া যায়। 
সুইচ গিয়ার বলতে সাধারণভাবে সুইচিং ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট রেগুলেটিং, সুরক্ষিত ও মাপার সরঞ্জাম এবং ঐ সব সরঞ্জাম বসানাের কাঠামাে ও কানেকশনের সমষ্টিকে বুঝায়। 

বৈদ্যুতিক সিস্টেমে সুইচগিয়ার প্রটেকশনের গুরুত্ব   

সুইচগিয়ার কোনাে একক বস্তুকে বুঝায় না। এটি বৈদ্যুতিক সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যকলাপের সংযােগকারী, বিচ্ছিন্নকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, নিয়ন্ত্রণকারী, পাঠদানকারী ও ভারসাম্য রক্ষাকারী যন্ত্রপাতির সহঅবস্থানকে বুঝায়। 

তদুপরি এদের নিজের মধ্যে সংযােগ ব্যবস্থা ও আনুসঙ্গিক ইকুইপমেন্ট-এর সহঅবস্থানের ব্যবস্থাপনাকেও বুঝায়। 

সুইচগিয়ারের প্রধান উপাদান দুটি। যথা- সার্কিট ব্রেকার ও রিলে। এছাড়াও অন্যান্য উপাদানগুলাে হলাে সি.টি, পি. টি, বাসবার, কন্ট্রাক্টর ও ট্রিপিং মেকানিজম ইত্যাদি। 

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে ক্রটিমুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে ক্রটির পরিমাণ এবং ক্রটির তীক্ষ্ণতা কমিয়ে সিস্টেমে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসমূহকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানাে যায়। 

অস্বাভাবিক অবস্থায় যেকোনাে বিপদের হাত থেকে বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তথা গােটা সিস্টেমকে রক্ষা করার জন্য খুব দক্ষ ও নিখুঁতভাবে অল্প সময়ে সুস্থ অংশকে ক্রটিপূর্ণ অংশ হতে আলাদা করার ব্যবস্থাকে প্রটেকশন স্কিম বলে। 
ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য বর্তমানে ব্যাপকভাবে সমপ্রসারণ সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষমতা বর্ধিত করা হচ্ছে। বর্ধিত ক্ষমতায় সিস্টেমকে নিপুণভাবে যথাসময়ে ত্রুটির কবল থেকে রক্ষা করার জন্য সুইচগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইসসমূহের কার্যকরী ব্যবহার অপরিহার্য। 

ভালাে সুইচগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইসসমূহের গুণাবলি : সনাক্তকরণ (Selectivty): ব্যবহৃত প্রটেকটিভ গিয়ার এবং ডিভাইসসমূহের পার্থক্যকরণ ক্ষমতা (Discrimination Power) থাকতে হবে। 

অর্থাৎ সিস্টেমের শুধু ত্রুটিযুক্ত অংশকে শনাক্ত এবং বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। নতুবা সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে না। 

সংবেদনশীলতা (Sensitivity): 

সুস্থ অবস্থায় নির্ধারিত লােডের চেয়ে সামান্য পরিমাণ বেশি লােডে সিস্টেমের কোনাে বিঘ্ন হবে না। কিন্তু ত্রুটিজনিত অবস্থায় যেকোনাে পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহের ফলে যেন ত্রুটিযুক্ত অংশকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। 

বিশ্বস্ততা (Reliability): 

যে কাজের জন্য প্রটেকটিভ গিয়ারকে নির্দিষ্ট স্থানে সংযােগ করা হয় তা ঠিক সময়ে সঠিক দায়িত্ব পালন করার জন্য বিশ্বস্ত হতে হবে। 

উচ্চ গতি (High Speed): 

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রটেকটিভ গিয়ার সাড়া দিয়ে যেন ত্রুটিযুক্ত অংশকে ত্রুটিহীন অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে উত্তম সেবাদান ও যন্ত্রপাতিসমূহের আয়ুষ্কাল ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

সুইচগিয়ার অ্যান্ডি প্রটেকশন স্থায়িত্বতা.(Stability): ফল্টকে প্রটেকশন দেওয়ার পরও এটির পূর্বের গুণাবলি বজায় থাকতে হবে। 

সুতা (Simplicity): 

প্রটেকটিভ গিয়ার এবং ডিভাইসসমূহের গঠন ও অপারেশন সহজ-সরল হতে হবে। ব্যবহৃত ইকুইপমেন্টসমূহের বৈশিষ্ট্য এমন হতে হবে যেন সিস্টেমের ভবিষ্যতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে কোনাে বাঁধার সৃষ্টি না হয়। 

বিভিন্ন প্রকার সুইচগিয়ার এর তালিকা

ভােল্টেজ অনুযায়ী সুইচগিয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন : এলটি সুইচগিয়ার (LT Switchgear) এবং এইচটি সুইচগিয়ার (HT Switchgear)। 

ব্যবহারিক ক্ষেত্র অনুযায়ী এইচটি সুইগিয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন: ইনডাের বা ঘরের মধ্যস্থ সুইচগিয়ার ও আউটডাের সুইচগিয়ার!  

সুইচগিয়ারের উপাদানের তালিকা

সুইচগিয়ারের প্রধান উপাদান হলাে সার্কিট ব্রেকার এবং রিলে (Relay)। বৈদ্যুতিক লাইনে বা সরঞ্জামে কোনাে ত্রুটি দেখা দিলে রিলের সহায়তায় সার্কিট ব্রেকার আপনা আপনি সুস্থ সার্কিটকে ত্রুটিযুক্ত অংশ হতে আলাদা করে দেয়। 

এই দুটি ছাড়া সুইচগিয়ারের অন্যান্য উপাদানগুলাে হচ্ছে ইনস্ট্রমেন্ট (মাপার সরঞ্জাম), ইনস্ট্রমেন্ট ট্রান্সফরমার (কারেন্ট ও ভােল্টেজ ট্রান্সফরমার), বাসবার, কন্ডাকটর ও ট্রিপিং এর যন্ত্রপাতি প্রভৃতি।

বৈদ্যুতিক ত্রুটির সংজ্ঞা

বৈদ্যুতিক লাইন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে ক্রটি বলতে বৈদ্যুতিক সার্কিটের কোনাে খুঁত বা দােষ, যার কারণে কারেন্ট কাক্ষিত পথে প্রবাহিত না হয়ে অন্য পথে প্রবাহিত হওয়াকে বুঝায়। অথবা, যখন দুই বা ততােধিক পরিবাহী স্বাভাবিক ভােল্টেজ পার্থক্যে কাজ করার সময় যদি একত্রে সংস্পর্শে আসে, তখন ফল্ট সংঘটিত হয়েছে বলা হয়। 

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমে বিভিন্ন প্রকার ক্রটি:

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমে যে সকল ত্রুটি সংঘটিত হয়, তাদের মধ্যে শর্ট সার্কিট ক্রটিই অন্যতম। 

শর্ট সার্কিট ফল্ট প্রধানত দুই প্রকার।

১। সিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Symmetrical Fault)।
২। আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Unsymmetrical Fault)। 

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমে ফন্টের কারণ:  

ফন্টের কারণগুলাে নিম্নরূপ: 

১। ইনসুলেশন ফেইলুর। 
২। লাইনের আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতি 
৩। লাইটনিং সার্জ 
৪। ভােল্টেজ ড্রপ। 
৫। আনব্যালেন্স এবং স্ট্যাবিলিটির পতন ইত্যাদি। 

সিমেট্রিক্যাল ফল্ট কি: 

সিস্টেমে যে ফল্টের কারণে তিন ফেজের প্রতিটি ফেজে সমপরিমাণ ফল্ট কারেন্ট প্রবাহিত হয়, সে ফল্টকে সিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলে। 

প্রতি ফেজের ফল্ট কারেন্ট জানার জন্য যেকোন একটি ফেজের ফল্ট কারেন্ট বের করলেই চলে। অর্থাৎ প্রতি ফেজেই সমান ফল্ট কারেন্টের মধ্যে কৌণিক দূরত্ব (Displacement) 120° হয়ে থাকে, তাকে সিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলা হয়। 

উদাহরণস্বরূপ, তিনটি ফেজ একত্রে শর্ট সার্কিট হওয়া এবং তিন ফেজ একত্রে আর্থের সাথে শর্ট সার্কিট হওয়া- এ দুই প্রকার ফন্ট সিমেট্রিক্যাল ফল্ট। 

আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট কি: 

সিস্টেমে যে ফল্টের কারণে তিন ফেজের প্রতিটি ফেজে সমপরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত না হয়ে অসম পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত হয়, সে ফল্টকে আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলে। 

অর্থাৎ যে ফন্টের কারণে অসম ফল্ট কারেন্ট অসম কৌণিক দূরত্বে প্রবাহিত হয় (Unequal Fault currents in the lines with unequal displacement), তাকে আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলে। 

আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট নিম্নরূপ : 

১। সিঙ্গেল লাইন টু গ্রাউন্ড ফল্ট
২। লাইন টু লাইন ফল্ট
৩। ডাবল লাইন টু গ্রাউন্ড ফল্ট

সুইচগিয়ার এন্ড প্রটেকশন pdf



বইয়ের নাম এবং লেখকসুইচ গিয়ার এন্ড প্রটেকশন - মসিউর রহমান।
আর্টিকেল লিখেছেনসাদাফ আমিন
ভাষা  বাংলা
ফাইলের ধরনপিডিএফ / ইপাব
ক্যাটাগরিএকাডেমিক
ওয়েবসাইটMovie Papi
বুকশপDurdin Magazine 
ফাইলের আকার11 MB
মোট ফাইল1 টি ফাইল
কপিরাইটপাবলিক ডোমেইন পরিবেশক
প্রকাশের তারিখ 07 Jun 2022
Tags

Post a Comment

0Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !